তিতাসে আঙুর চাষে ভাগ্য বদলের নতুন সম্ভাবনা

কুমিল্লার তিতাসের মোজাম্মেল হকের শখের আঙুর বাগান। ছবি: আগামীর সময়
ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন কুমিল্লার তিতাসের মো. মোজাম্মেল হক। সেই স্বপ্ন থেকে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর গড়ে তোলেন নিজের আঙুর বাগান। নতুন বাগানেই থোকায় থোকায় ধরেছে আঙুর।
তার এই সাফল্যের গল্প এখন ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। প্রতিদিনই বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন নানা এলাকার মানুষ।
উপজেলার শোলাকান্দি এলাকার গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিতে আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন মোজাম্মেল হক। বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানটি।
মোজাম্মেল হক জানালেন, নিচু জমিকে চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভরাট করেছেন বালি ও পলিমাটি দিয়ে। পরে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে একুনো, বাইকুনো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও পর্তুগাল জাতের ১৪৪টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করেন। গত ১৬ মার্চ রোপণ করেন সেই চারা। প্রতিটি চারার দাম ছিল ৪০০ টাকা। চারা ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি।
মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, ইউটিউবে মহেশপুরের এক আঙুরচাষির বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন। পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সেই বাগান। এরপর নিজেই শুরু করেন আঙুর চাষ। রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই আসতে শুরু করেছে গাছে ফল। অতিবৃষ্টি এবং বাগান নতুন হওয়ায় এবার ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
একটি আঙুর গাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম বলেও জানান তিনি।
মোজাম্মেলের ছেলে আরাফাত হক সোহান জানিয়েছেন, আঙুরের পাশাপাশি তার বাবা শখের বশে রামবুটান, পেঁপে এবং ইতালি থেকে আনা কয়েকটি বিদেশি ফলের চারাও রোপণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্লা জানান, বাগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রতিদিন বিকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন।
বাগান দেখতে আসা শামীম, মাইনুদ্দিন ও সুমন জানান, দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন এবং সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে এসব ফল কিনতে পারবেন।
এদিকে একই উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের যুবক আবুল হোসাইন শাহেদও ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি বছরের মে মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫৫০টি আঙুরের চারা রোপণ করেছেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই অনেক গাছে আঙুর ধরেছে। আঙুরের পাশাপাশি তিনি আনারকলির চারাও রোপণ করেছেন।
তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, শাহেদের বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোজাম্মেল হকের আঙুর চাষের বিষয়টিও কৃষি বিভাগের জানা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাগানটির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে।





