চার ঘণ্টাতেও মেলেনি ট্রেনের দেখা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ছবি: আগামীর সময়
বিকেল গড়িয়ে রাত নামলেও স্টেশনে কোনো ট্রেনের দেখা নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্ল্যাটফর্মে ঠায় বসে আছেন শত শত মানুষ। কেউবা পরিবার-পরিজন আর ছোট বাচ্চা নিয়ে পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় তেলবাহী একটি ট্রেনের ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার পর আজ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল থেকে এভাবেই থমকে গেছে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। আর তাতেই শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়া ঢাকা ও সিলেটগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভানুগাছ ও শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের মাঝামাঝি লাউয়াছড়া বনের ভেতরে সিলেট থেকে আখাউড়াগামী তেলবাহী ট্রেনের একটি খালি ওয়াগনের বগি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ঘটনার পর পরই এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও স্টেশনে আটকা পড়ে আছে।
বনের ভেতরের এই দুর্ঘটনার জেরে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে তৈরি হয়েছে এক চেনা ভোগান্তির চিত্র। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত যাত্রী প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত হতে পারছেন না কেউ।
সিলেটগামী যাত্রী পুলক তাঁর ক্ষোভ ও খোদ প্রকাশ করে বললেন, 'প্রায় চার ঘণ্টা ধরে স্টেশনে বসে আছি। ট্রেন কখন আসবে, সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। এখন যে স্টেশন ছেড়ে সড়কপথে যাব, সেখানেও প্রচুর ভোগান্তি।'
একই স্টেশনে ঢাকাগামী ‘পারাবত এক্সপ্রেস’ ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সুমন মিয়া। সপরিবারে শ্রীমঙ্গল ঘুরতে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়বেন তা ভাবেননি তিনি। তার ভাষ্য, 'আজই ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। বিকেল ৬টার দিকে ট্রেন ছাড়ার সময় থাকলেও রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো খবর পাইনি। সাথে ছোট বাচ্চা আছে, ওকে নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।'
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তেলবাহী ট্রেনের খালি ওয়াগনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর থেকেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। তিনি জানালেন, 'লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে। রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে দ্রুত কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।'
উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের এই অপেক্ষা আর ভোগান্তি কতক্ষণ দীর্ঘ হবে, তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে সংশয়।






