নাটোরে নিহত ১২ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহতের মরদেহ সড়কের পাশে রাখা হয়। ছবি: আগামীর সময়
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল থেকে নিহতদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার বরাতলা গ্রামের ট্রাকচালক কামাল হোসেন (৫০), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার চায়নাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪৫) ও তার মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জুয়েল হোসেন (৪০), ডুবি সাহেবের গ্রামের সালাল মোল্লা (৪৫) ও আব্দুস সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (৩৫) ও সোহাগ আলী (৩০), ফরিদপুর সদর উপজেলার বাকুমদিয়া গ্রামের হিমেল পরিজন (৩০) এবং নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা গ্রামের রাসেল (৩৫)।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, গত সোমবার রাতে বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে আরপি স্পেশাল নামের বাসটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে ঝিনাইদহ থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি যানবাহনই দুমড়েমুচড়ে যায়।
তিনি আরও জানালেন, দুর্ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের নাটোর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




