কুষ্টিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের জমি দখলের চেষ্টা, হামলা

ভুক্তভোগী শিক্ষক আজিজুর রহমান
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রাম এলাকায় পৈতৃক জমি জবরদখল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার সশস্ত্র হামলা এবং ফসল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গুরুতর জখমের প্রমাণ মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান (৬১) ও তার পরিবার জানান, কুমারখালীর বাঁশগ্রাম মৌজায় ১৯৩৩ সাল থেকে তারা বৈধ কাগজপত্রসহ পৈতৃক সূত্রে জমি ভোগদখল করছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই সকালে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। শিক্ষক আজিজুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। এ সময় অভিযুক্তরা জমি থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার পাট কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কুমারখালী থানায় একটি এজাহার এবং গত ১৯ মে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মো. জিন্নাহ, জিয়া, মো. আব্দুল হাকিম, ঝন্টু হোসেন, সবদুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান কালু, টুটুল হোসেন, আশিক, সুজন হোসেন, শাওন, আলমগীর হোসেন, কুদ্দুস ও সাইদুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন সশস্ত্র অবস্থায় পুনরায় জমিতে প্রবেশ করেন। শিক্ষক আজিজুর রহমান বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ছেলে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি স্মরণ এহসান অভিযোগ করে বলেছেন, কুষ্টিয়া জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের কর্মী আনিস এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মেহেদী রুমির কর্মী ওয়ায়াদুদসহ একদল সন্ত্রাসী এই ঘটনার নেপথ্যে মদদ দিচ্ছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি কুচক্রী মহল নিরীহ শিক্ষকের শতবছরের সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে।
এদিকে অভিযুক্ত বিএনপিকর্মী মো. ওয়াদুদ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে জমি ও পাট কাটা কেন্দ্রিক বিরোধ থেকে। এ বিষয়ে আগে একটি মামলা হয়েছিল। আসামিরা জামিনেও বের হয়েছেন। আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা থাকলেও, সুরাহা হওয়ার আগেই গত পরশু (১১ আগস্ট) সাবেক শিক্ষক আজিজুর রহমান কিছু লোক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি চাষ করতে যান। এতে প্রতিপক্ষ বাধা দিলে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ওই শিক্ষক নিজের সিদ্ধান্তে না চলে অন্য এলাকার মানুষের কথামতো চলছেন, যা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আমরা চাই সবাই মিলে বসে ছাড় দিয়ে হলেও গ্রামে একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হোক।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, বাঁশগ্রামের জমিজমা সংক্রান্ত ওই ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কোনো গুরুতর জখমের প্রমাণ মেলেনি এবং এটি সরাসরি নিয়মিত মামলা হওয়ার মতো আমলযোগ্য অপরাধ নয়। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় জিডি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।




