সাজেকে এক দিনের জন্য সড়ক অবরোধ শিথিল

সাজেক
সাজেকে পর্যটন সড়কে চলমান অবরোধ এক দিনের জন্য শিথিল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় আগামী রবিবার (১ নভেম্বর) অবরোধ শিথিল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষে বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে নতুন জয় চাকমা স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শিথিল থাকবে। তবে পরদিন সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ শিথিলতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিহার কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিনের অবরোধে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাজেকের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় কটেজ-রিসোর্টের মালিক ও কর্মচারী, পর্যটকবাহী জিপচালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। পর্যটন মৌসুমে ব্যবসা জমজমাট হওয়ার কথা থাকলেও অনিশ্চয়তার কারণে তাদের অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু পরদিন থেকেই আবার অবরোধ শুরু হলে তাঁদের দুর্ভোগের অবসান হবে না। বারবার পর্যটন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সাজেকের পর্যটনশিল্পের সুনাম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।
তারা মনে করেন, সাময়িকভাবে অবরোধ শিথিল করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। এতে স্থানীয় মানুষের দাবির পাশাপাশি পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা ও ব্যবসা-বাণিজ্যও সচল রাখা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, সাজেকে পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় টানা নয় দিন ধরে অবরোধ কর্মসূচি চলছে। এর মধ্যেই এক দিনের জন্য কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা এলো। এর আগে ২১ অক্টোবর থেকে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। অবরোধ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের ন্যায্য দাবি পূরণের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



