অবাধ ও নিরপেক্ষ ইউপি নির্বাচন করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: ড. মারুফ

ছবি: আগামীর সময়
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ।
তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।
ড. খন্দকার মারুফ বলেছেন, গণতন্ত্রের প্রথম পাঠশালা হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি দুর্বল হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের পৃথক সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার নিজ এলাকার সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তার ভাষ্য, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচনব্যবস্থার সমালোচনা করে ড. খন্দকার মারুফ দাবি করেন, ওই সময়ে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারসহ কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে দলটি দেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে পালিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সৎ, মেধাবী এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান ড. খন্দকার মারুফ।
দুদিনব্যাপী এ প্রার্থী বাছাই কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন ড. খন্দকার মারুফ। রবিবার দাউদকান্দি উপজেলা সদরের মারুফ ভিলায় এবং সোমবার গৌরীপুরে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে বিশেষ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম।
এ সময় বিএনপি নেতা ভিপি জাহাঙ্গীর আলম ও যুবদল নেতা রোমান খন্দকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



