মন্ত্রীর সামনে মায়ের ক্ষোভ

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
নবজাতক কোলে নিয়ে হাসপাতালের সেবা না পাওয়ার অভিযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক নারী।
আজ শনিবার দুপুরে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে নারীর অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন মন্ত্রী।
নারী বলেন, ‘আপনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিসের জন্য? আমরা কি স্বাস্থ্যসেবা পাই? কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে আছি। ৬০০ টাকা দিয়ে ইঞ্জেকশন কিনতে হয়। একটা স্যালাইনও পাওয়া যায় না।’
একপর্যায়ে ভিড় ঠেলে বেরিয়ে যান ওই নারী। প্রায় আড়াই ঘণ্টা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী জানতে পারেন, মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ছুটি না নিয়েই পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ফার্মাসিস্ট রিগ্যান আহমেদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন ঔষধাগারে অস্থায়ী এক কর্মচারীকে দায়িত্ব দিয়ে।
মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসক মেহেদী আগে থেকেই বরখাস্ত। তাকে টার্মিনেট এবং ফার্মাসিস্টকে বিশ্বম্ভরপুরে বদলির নির্দেশ দিয়েছি।’
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। অপ্রতুল চিকিৎসক, শয্যা সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং সর্বত্র অপরিচ্ছন্নতা রয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালে পাঁচ বছর ধরে পড়ে থাকা জেনারেটর নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
জেনারেটরটি খুলে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় হাম আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু নিয়েও ব্যাখ্যা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা সরকার অর্জন করলেও পাঁচ মাসের কম বয়সী শিশুরা সাধারণত টিকা পায় না। হাম আক্রান্ত ও মৃত শিশুদের বেশির ভাগই পাঁচ মাসের কম বয়সী হওয়ায় তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার চালু করে চিকিৎসক ও নার্সদের বাড়ি বাড়ি পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রত্যেক জেলায় অন্তত ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
শনিবার প্রায় আড়াই ঘণ্টার পরিদর্শনে মন্ত্রী হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব, জেলা প্রশাসক ড. জি এম শরফরাজ এবং হাসপাতালের সুপার ডা. আমিনুল হক সরকার উপস্থিত ছিলেন।








