‘আমাগো দুঃখ কোনোদিন শেষ হইব না’

ইট ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করছেন পুষ্প রায়, ছবি : আগামীর সময়
বয়স ৬০ বছর। প্রায় ৩০ বছর ধরে ইট ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করছেন পুষ্প রায়। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছেন, স্বামীও আর কাজ করতে পারেন না। নিজের জমিজমা নেই। পরের জমিতে ছোট একটি ঘরে থাকেন স্বামী নেপাল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে। প্রতিদিন কাজ করে আয় করেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কাজ না থাকলে সেই আয়ও হয় না। তবু সংসারের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিন ইটের স্তূপের পাশে বসতে হয় তাকে।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালপুরের হাজরাবাড়ি পৌরসভার কাড়ইচড়া এলাকায় ইট ভাঙছিলেন পুষ্প। তীব্র রোদের মধ্যেও থামেনি তার হাতুড়ি। একটি ইট ভেঙে টুকরো করার পর সামনে টেনে নেন আরেকটি। এভাবেই কেটে যাচ্ছে তার দিনের পর দিন।
পুষ্প জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে ইট ভাঙার কাজ শুরু করেন তিনি। তখন প্রতি সেফটিতে মজুরি পেতেন ৫০ পয়সা। বর্তমানে প্রতি সেফটির মজুরি ৬০ টাকা। তবে মজুরি বাড়লেও সংসারে স্বচ্ছলতা আসেনি। দিনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়েই খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হয়। সব দিন কাজও পাওয়া যায় না।
পুষ্প রায় বলেন, ‘জীবনডা খুব কষ্টে চলে। আমাগো দেখার কেউ নাই। সরকার থেইকা কোনোদিন কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও পাই নাই। নিজের কোনো জমিজমাও নাই। পরের জমিতে ছোট্ট একটা ঘরে স্বামী নেপাল চন্দ্র রায়ের লগে থাকি। তারও বয়স হইয়া যাওয়ায় এখন আর কাম করতে পারে না। আমাগো এক পোলা আর এক মাইয়া। দুইজনেরই বিয়া হইছে, তারা যার যার সংসার নিয়া আলাদা থাকে। আমাগো দুঃখ কোনোদিনও শেষ হইব না। মরার আগ পর্যন্ত এই দুঃখ থাইক্যাই যাইব।’
পুষ্পের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ইট ভাঙার কাজ করলেও জীবনের শেষ সময়ে এসে তার আর্থিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। বয়স বাড়লেও কাজের প্রয়োজন কমেনি। বরং স্বামী কাজ করতে না পারায় সংসারের দায়িত্ব আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলে রোদের তেজ কিছুটা কমে আসে। তখনও ইট ভাঙার কাজে ব্যস্ত থাকেন পুষ্প। দিনের কাজ শেষে যে সামান্য মজুরি হাতে পান, তা দিয়েই পরের দিনের খাবার ও সংসারের প্রয়োজনের হিসাব মেলাতে হয়। বিশ্রামের বয়সে এসেও তাই কাজ থামানোর সুযোগ নেই তার।
পুষ্পের চাওয়া খুব বেশি নয়। দুইবেলা খাবার, মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি জায়গা এবং জীবনের শেষ সময়ে কিছুটা স্বস্তি। প্রায় তিন দশক ধরে ইট ভাঙার পরও সেই নিশ্চয়তা তার জীবনে আসেনি।




