বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় ৩ খুন

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় স্কুলশিক্ষার্থী, পাঁচ মাসের শিশু ও এক নারীসহ তিনজনের হত্যার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে গাবতলীতে এক শিশুকে গলা টিপে হত্যা ও এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ১২টার দিকে সারিয়াকান্দির নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ সাঈম মুস্তাকিম চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং ওই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের স্বজনরা জানান, কয়েক দিন আগে ফুটবল খেলা নিয়ে মুস্তাকিমের সঙ্গে শাহাদত হোসেন নামে একজনের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে আজ স্কুলের সামনে পেয়ে শাহাদত ও তার বাবা শাহ আলী মুস্তাকিমের ওপর হামলা চালান। হামলায় ছুরিকাঘাতে সে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা-ছেলে পলাতক।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাবতলী উপজেলার কলাকোপা সুবোদ বাজার এলাকায় আব্দুল্লাহ নামে পাঁচ মাসের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা রায়হান আলীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, শিশুটির মা দুপুরে বাবার কোলে সন্তানকে দিয়ে ভিজিডির চাল আনতে যান। চাল নিয়ে ফেরার পর রায়হান আলী তার স্ত্রীর কোলে সন্তানকে ফেরত দেন। তখন শিশুটি প্রায় নিস্তেজ ছিল। এরপর স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায় আব্দুল্লাহ মারা গেছে। পরে সন্তানকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠলে রায়হান আলী পালিয়ে যান।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান বললেন, যেহেতু বাবার কাছে থাকা অবস্থায় আব্দুল্লাহ মারা গেছে, তাই গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আমরা এখনই কিছু বলছি না, ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে বুধবার রাতে গাবতলীর সুখানপুকুরে রিতা রানী নামে ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হন।
তার স্বামী বিধান চন্দ্র রায় জানান, রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে তিনি ও তার স্ত্রী আলাদা ঘরে ঘুমাতে যান। রাত ১২টার দিকে তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পান। এর কিছুক্ষণ পরই স্ত্রীর চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন, বাড়ির পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দুটি দরজা খোলা। পরে স্ত্রীর ঘরে গিয়ে গলাকাটা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা বলতে পারছেন না বিধান চন্দ্র।
এ ঘটনায় একটি মামলার এজাহার দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাবতলী মডেল থানার ওসি।




