শ্যামনগর হতে পারে ভ্রমণের নতুন দুয়ার

সুন্দরবন দেখতে প্রতি বছর সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আসেন হাজারো পর্যটক। তবে সুন্দরবনের বাইরেও এই উপজেলায় রয়েছে রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানীর স্মৃতি, কয়েকশ বছরের পুরনো মন্দির-মসজিদ, নকিপুর জমিদারবাড়ি, নদী ও উপকূলীয় জীবন। আছে মুন্ডা জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সংস্কৃতিও। এসব আকর্ষণকে একটি পর্যটন রুটে যুক্ত করা গেলে শ্যামনগরে পর্যটকের অবস্থান বাড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হতে পারে স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।
আজ রবিবার বিশ্ব পর্যটন দিবস। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক ভ্রমণের সঙ্গে ইতিহাস, নদী ও সংস্কৃতিকে যুক্ত করে শ্যামনগরে বহুমুখী পর্যটন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
ঈশ্বরীপুরে রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানীর স্মৃতিবিজড়িত যশোরেশ্বরী কালীমন্দির, শাহী মসজিদ, হাম্মামখানা ও অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। একই এলাকায় এসব স্থাপনা থাকায় এখানে রয়েছে ‘হেরিটেজ সার্কিট’ গড়ে তোলার সুযোগ। কিন্তু অনেক স্থাপনায় নেই তথ্যফলক, সংরক্ষণেও রয়েছে ঘাটতি। শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. তৌহিদুর রহমান বলেছেন, ঈশ্বরীপুরের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো একটি রুটে যুক্ত করা গেলে পর্যটকরা একই সঙ্গে ইতিহাস ও স্থাপত্য দেখার সুযোগ পাবেন। তবে আগে স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।
উপজেলা সদরের কাছে নকিপুর জমিদারবাড়িও পর্যটনের আরেকটি সম্ভাবনাময় স্থান। ১৮৮৮ সালে নির্মিত ভবনটি এখন অযত্নে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাব হোসেন বলেছেন, দ্রুত সংস্কার না করলে হারিয়ে যেতে পারে ভবনটির ঐতিহাসিক নিদর্শন।
মালঞ্চ, কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, কালিন্দী ও রায়মঙ্গল নদী ঘিরে গড়ে উঠেছে শ্যামনগরের উপকূলীয় জীবন। নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব নৌভ্রমণের ব্যবস্থা হলে পর্যটকরা জোয়ার-ভাটা, মাছ ধরা কাছ থেকে দেখতে পারবেন।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেছেন, সুন্দরবনের পাশাপাশি স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি, নদী ও জীবনযাত্রাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, তথ্য সহজলভ্য করা এবং স্থানীয় নারী-তরুণদের পর্যটন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।



