জামালপুরে ভাঙা সেতু আর বেহাল সড়কে দুর্ভোগে ৪ গ্রামের মানুষ

মাদারগঞ্জের জোড়খালী ইউনিয়নের ঝাড়কাটা নদীর ওপর নির্মিত ভাঙা সেতুটি সংস্কার হয়নি সাত বছরেও। ছবি: আগামীর সময়
সাত বছর ধরে ভাঙা সেতু। সঙ্গে খানাখন্দে ভরা সড়ক। এতে জামালপুরের মাদারগঞ্জের চার গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদরে যেতে ঘুরতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার পথ।
শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি এই যোগাযোগ সংকটের প্রভাব পড়েছে সামাজিক জীবনেও। সড়কের বেহাল হওয়ার কারণে বিয়েও আটকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
২০১৯ সালের বন্যায় ঝাড়কাটা নদীর একটি শাখার ওপর নির্মিত সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।
এর সঙ্গে খানাখন্দে ভরা সড়ক যুক্ত হয়ে উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের চার গ্রামের মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি অচল থাকায় ভেলামারী, মৃধাপাড়া, গুনারিতলা ও মোল্লাপাড়া গ্রামের মানুষকে উপজেলা সদরে যেতে ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটিই বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ মানুষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে গেছে। মাঝের অংশ ভেঙে নিচের দিকে হেলে আছে। দুই পাশে কাঁচা সড়ক থাকলেও সেতুর সঙ্গে কার্যকর কোনো সংযোগ নেই।
শুকনো মৌসুমেও সেতুর মাঝের অংশে পানি জমে থাকে। ফলে স্থানীয়রা সরু মাটির পথ দিয়ে হেঁটে, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেলে চলাচল করছেন। বড় যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। কোনো যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রীদের বাড়তি, কখনো দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না বেগম বললেন, ‘ভাঙা সেতু আর খানাখন্দ সড়কের কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে আটকে যায়। দেখে পছন্দ হলেও সড়ক দেখে ফেরত যায়।’
এই সড়ক দিয়ে চারটি মাদ্রাসা, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। সেতুটি অচল থাকায় তাদের কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। এতে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে। কেউ এসে খোঁজখবর নেয় না। আমাদের প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারে না।
তিনি দ্রুত ঝাড়কাটা নদীর শাখার ওপর নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ভেলামারী এলাকার আলিয়া বেগম বলেছেন, ‘আমাদের ওই পাশে আবাদ করছি। সেই আবাদের ফসল নিয়ে আসতে পারি না। ছোট ছোট দুই ছেলে-মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি, আসা-যাওয়ার সমস্যা।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানালেন, সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই বরাদ্দ পেয়ে যাব। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে। এতে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, সেতুটি ২০১৯ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণে দুটি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বলা হয়েছে।




