এমরান সালেহ প্রিন্স
যুদ্ধ থেকে রাজনীতির ময়দান, সবক্ষেত্রেই শহীদ জিয়া ছিলেন সফল

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
যুদ্ধের ময়দান থেকে রাজনীতির ময়দান-সবক্ষেত্রেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সফল ছিলেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার (৩১ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে একথা বলেন তিনি।
জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের মূর্ত ও বিমূর্ত প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে এমরান সালেহ প্রিন্সের ভাষ্য, তিনি বাংলাদেশের গৌরবজনক ইতিহাস ও জন রাজনীতির ধারক, বাহক এবং বাস্তবায়নকারী। বাংলাদেশের ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহ এবং আদর্শিক চেতনা—উভয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে তার জীবন, কর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনায়। ভাগ্য, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও জনগণের সমর্থন এবং ভালোবাসা শহীদ প্রেসিডেন্টকে রণ থেকে জন-তে পরিণত করেছিল।
প্রিন্স উল্লেখ করেন, মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদান ও পরিচালনা, স্বাধীনতা অর্জন, পঁচাত্তরে দেশ রক্ষা, রাষ্ট্র গঠন, নেতৃত্বের বিকাশ, জাতীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বনির্ভরতা এবং আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও অবদান নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির যেসব আদর্শ, মূল্যবোধ, জাতীয়তাবোধ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারণা রয়েছে- সেগুলোকেও জিয়াউর রহমান ধারণ ও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি শুধু ইতিহাস, আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক চিন্তার প্রতীক ছিলেন না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেসব আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
প্রিন্সের ভাষ্য, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং আদর্শিক চেতনা উভয়ই জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের প্রবর্তন করেন, যা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার রাজনৈতিক দর্শন আজও দেশের কোটি মানুষের প্রেরণার উৎস।
‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন কর্ম, সততা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে’ যোগ করেন তিনি।
হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীরের সঞ্চালনায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম এবং হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, আবদুল হাই, আলী আশরাফ, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, মিজানুর রহমান, শফিকুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মশিউর রহমান, মনিরুজ্জামান স্বাধীন, সামসুল আলম শামস, তাজিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নিলু, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল, আসাদুজ্জামান আসিফ, জেলা জাসাস সভাপতি শফিকুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা আহ্বায়ক রুহুল আমিন খান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মশিউজ্জামান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এম আর আল আমিন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাজবীর হোসেন অন্তর, উপজেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব আলী আজগর, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব জাকির মাহমুদ চঙ্কল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।






