জমি জটিলতায় থমকে আছে শরীয়তপুর-নাওডোবা চার লেন প্রকল্প

ছবি: আগামীর সময়
পদ্মা সেতু চালুর পর শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে শরীয়তপুর-নাওডোবা চার লেন সড়ক ও সেতু নির্মাণ প্রকল্প।
প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাজ বন্ধ করে চলে গেছেন ঠিকাদাররা। ফলে ভাঙাচোরা সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরের লাখো মানুষ।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের নাওডোবা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২১ সালে শুরু হয়। গত ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও তিনটি প্যাকেজের কাজ এখনো অসমাপ্ত। বর্তমানে প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৬০ একর জমির প্রয়োজন হলেও জেলা প্রশাসন এখনো ৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ফলে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে ২৭ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজীরহাট সেতুর নির্মাণকাজ আটকে রয়েছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর এ সড়কটি শরীয়তপুরের পাশাপাশি মাদারীপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরের মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতপথে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে এক হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং জ্বালানি খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোটাপাড়ায় নতুন সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়া এবং কাজীরহাট সেতুর কাজ অসমাপ্ত থাকায় যানবাহনগুলোকে এখনো পুরোনো সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শরীয়তপুর-ঢাকা রুটের বাসচালক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, শরীয়তপুর অংশের প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কে গাড়ি চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর থেকেই যাত্রীদের দুর্ভোগ শুরু হয় এবং এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চালক মো. জামাল খানের ভাষ্য, চার লেন সড়কের আশায় থাকলেও বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যাত্রী আব্দুর রহমান বলেছেন, চার লেন সড়কের কাজের কথা অনেক দিন ধরে শোনা গেলেও বাস্তবে এখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হচ্ছে।
আরেক যাত্রী সুজন বলেছেন, বর্ষায় কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমার ভাষ্য, এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতের পর অনেক সময় ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করলে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় নির্মাণকাজ এগোচ্ছে না। কাজের গতি ফেরাতে তিনটি প্যাকেজেরই মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম বলেছেন, জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। ২১টি ভূমি অধিগ্রহণ মামলার মধ্যে ১৫টির জমি এরইমধ্যে সওজকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করে জমি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।





