রৌমারী
ভাঙন ঠেকাতে বাঁশের বান্ডেল নির্মাণ এলাকাবাসীর

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের রৌমারীর ৪ নম্বর সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী এলাকায় ধরণী নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের বান্ডেল নির্মাণ করেছেন এলাকাবাসী।
এক সপ্তাহ ধরে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে এই কার্যক্রম চলছে। তবে সাময়িকভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিন দেখা যায় এসব চিত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুকনো মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের কৃষি ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। নদীর দুই তীরজুড়ে আমন, সরিষা, মাসকলাই ও ভুট্টার আবাদ হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ভারতীয় পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে প্রতি বছর নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায় ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গাছপালা। এতে বছরের পর বছর নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন শত শত পরিবার।
এদিকে দ্রুত স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে আগামী বর্ষায় বড়াইবাড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আবারও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর অর্থ, বাঁশ ও স্বেচ্ছাশ্রমের সহযোগিতায় প্রায় ৬০০ মিটার এলাকাজুড়ে সাতটি বাঁশের বান্ডেল নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে চলতি বছর আপাতত নদীর ভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু জাফর আলী বলেন, গত এক বছরে কয়েক একর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। পরে সবাই মিলে বাঁশের বান্ডেল নির্মাণ করার পর আপাতত ভাঙন থেমেছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বললেন, স্বেচ্ছাশ্রমে বান্ডেল নির্মাণ করায় এবার আমরা নদীভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছি। তবে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে সরকারের উদ্যোগে টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি।
উদ্যোক্তা ফারুক আহমেদের ভাষ্য, আমাদের বাপ-দাদার প্রায় সাত একর জমি ছিল। নদীভাঙতে ভাঙতে এখন শুধু বসতভিটা টিকে আছে। এ বছর বাঁশের বান্ডেল দেওয়ার পর ভাঙন হয়নি। কিন্তু স্থায়ী বাঁধ না থাকায় বড়াইবাড়ির প্রায় ২০০ পরিবারের দুই হাজার মানুষ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
তিনি যোগ করেন, নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় বাজার, একটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়াইবাড়ি বিজিবি ক্যাম্প, ঈদগাহ মাঠ এবং কবরস্থান।
ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ জানালেন, ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের প্রবল পানির চাপ মোকাবিলায় স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই। তবে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত বাঁশের বান্ডেল এ বছর নদীর আগ্রাসন থেকে অনেকটাই রক্ষা করেছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







