গণহত্যার দায়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ একই সূত্রে গাঁথা: ইশরাক হোসেন

ছবি: আগামীর সময়
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে গণহত্যার। এ কারণে দল দুটি একই সূত্রে গাঁথা এবং তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
বুধবার বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা পরিষদ হলরুমে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান উভয়ই ছিল জনমানুষের আন্দোলন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের সবার অবদান রয়েছে। এই কৃতিত্বের দাবিদার আমরা সকলেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী এখনো নিখোঁজ। চৌধুরী আলমের মতো নেতাকে গুম করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে হাজারো মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগও স্মরণ করা উচিত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পরও বিএনপি কখনো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের একক কৃতিত্ব বলে দাবি করেনি। কোনো কিছুর কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনের সীমা অতিক্রম করায় আমরা প্রতিবাদ করেছি, আন্দোলন করেছি।
মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইশরাক হোসেন বলেন, জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। তিনি দাবি করেন, একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বহু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাজপথে আন্দোলন করেছেন এবং জীবনবাজি রেখে আন্দোলনকে সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অবদান স্মরণে রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলটির কিছু নেতা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি, অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহার করে দেশকে লুটপাট করেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে এ পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলা, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা কিংবা একাত্তরকে অবমাননার যে কোনো অপচেষ্টার জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের পর জাতিকে আর বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাটখিল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনীষ দাশ এবং চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, সাবেক আহ্বায়ক দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামীম, সদস্যসচিব আহসানুল হক মাসুদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




