শিশু নন্দিনী হত্যার বিচার হবে দ্রুত : ত্রাণমন্ত্রী

নিহত শিশু নন্দিনীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: আগামীর সময়
লালমনিরহাটে হত্যার শিকার শিশু নন্দিনীর পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আদিতমারী উপজেলায় নন্দিনীর বাড়িতে গিয়ে এ কথা জানালেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে বাড়ি সাত বছরের নন্দিনীর। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বললেন ত্রাণমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের জানালেন প্রধানমন্ত্রীর বার্তা।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাজেট অধিবেশনে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন তা করতে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলার তিনজন সংসদ সদস্য ও জেলা শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এসেছি।’
‘এরই মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি যতদূর শুনেছি গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যার দায় স্বীকার করেছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে, তা সম্পন্ন করে চার্জশিট দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নন্দিনী হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করা হবে। আমাদের এমনটাই মনে হয়, যারা এতটুকু একটি ছোট্ট শিশুকে হত্যা করতে পারে তারা মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যেন এমন কাজে আর কেউ যুক্ত হতে সাহস না করে’— যোগ করলেন তিনি।
নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার ঘিরে তৈরি সহিংস পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুললেন লালমনিরহাট-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য।
তার পর্যবেক্ষণ, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তারা আসামিকে গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরছিলেন। কার উসকানিতে কার প্ররোচনায় প্রশাসনকে আক্রমণ করা হলো? এটি আরেকটি অপরাধ। আইন হাতে তুলে নিয়েছে তারা। এটিতে কারও উসকানি আছে কি না— সেটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। সাধারণ মানুষ যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তারা নিশ্চিতে বাড়িতে থাকবে; কিন্তু যারা ক্রিমিনাল, যারা প্রশাসনকে আক্রমণ করে মব সৃষ্টি করে, তারা অপরাধী। আমরা বলেছি, যারা এ অপরাধে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
মন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় ছিলেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক।
গত মঙ্গলবার সকালে ফলিমারী গ্রামে ভুট্টাক্ষেতের মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায় সাত বছরের নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ। পুলিশ সেটি উদ্ধারে গেলে শুরু হয় উত্তেজনা।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী বিধান শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পুলিশ তাকে আটকও করে। একপর্যায়ে বিধানের বাড়িতে আগুন দেয় গ্রামবাসী। তাকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা হয়।
এ সময় থানা পুলিশের ওপর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, সোমবার রাতে শিশু নিখোঁজের অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে ওসি বিষয়টি আমলে নেননি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান ও পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যান বিজিবি ও আনসারের সদস্যরাও। তাদের দেখে বেড়ে যায় গ্রামবাসীর উত্তেজনা। পুলিশ ও প্রশাসনের গাড়িবহরে চলে ভাঙচুর। সাউন্ড গ্রেনেড মেরে গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হন থানার ওসি-এসআইসহ অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
পরদিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানালেন, প্রতিবেশী দুই পরিবারে নানা ইস্যুতে ছিল দ্বন্দ্ব। এরই জেরে প্রতিবেশীর শিশুকন্যা নন্দিনীকে হত্যা করেন বিধান। তবে ধর্ষণ করেননি বলে দাবি তার। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে ডাক্তারের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর।







