বোয়ালমারীতে সরকারি স্কুলে অবৈধ সিলেবাস বিক্রি, শিক্ষক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো আইনি বৈধতা বা শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছে বেসরকারি সিলেবাস বিক্রি করা হচ্ছে। প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ সিলেবাস বিক্রির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী শিক্ষক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
৭ মে থেকে শুরু হওয়া প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষাকে সামনে রেখে এই বাণিজ্য শুরু হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪-৫ পৃষ্ঠার সিলেবাসের দাম রাখা হয়েছে ২০ টাকা, আর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা।
ছোলনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন জানালেন, শিক্ষা দপ্তরের নীতিমালায় এ ধরনের সিলেবাসের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবুও কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক নেতার চাপে তারা শিক্ষার্থীদের এই সিলেবাস কিনতে বাধ্য করছেন।
বোয়ালমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, 'এই সিলেবাসের সঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের পাঠপরিক্রমায় এর কোনো স্থান নেই। সরকার বা মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে আমাদের নির্দেশনা দিত। যারা এটি করেছেন, তারা সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে করেছে।'
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ খান দাবি করেন, 'এ ধরনের কোনো কিছুর সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্ট নই। যারা করেছেন, আপনি তাদের সাথে কথা বলেন। এ সম্বন্ধে কিছুই আমার জানা নেই।'
বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, 'যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে দেখতে বলেছি।'
উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক এবং সরকার নির্ধারিত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা। বিশেষত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের ওপর এ ধরনের আর্থিক চাপ চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষকও ক্ষোভ জানিয়েছেন।




