তরুণীকে ধরে নিয়ে মারধরের অভিযোগ, দুই বোন গ্রেপ্তার

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের টেকনাফে এক তরুণীকে ধরে নিয়ে মারধর ও বিবস্ত্র করার অভিযোগে করা মামলায় দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মোর্শেদা আকতার ও রেহেনা আকতার। তারা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর শীলখালী এলাকার দুবাইপ্রবাসী নুরুল হকের সঙ্গে ওই তরুণীর সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী মোর্শেদা আকতার। বুধবার বিকেলে কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে ওই তরুণীকে আটকে মোর্শেদার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরে বাড়ির উঠানে একটি খুঁটির সঙ্গে তরুণীর হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পরনের পোশাক খুলে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মোর্শেদার ভাই, বোন ও প্রতিবেশীসহ ১২ থেকে ১৫ জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় কয়েকজন তরুণীকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।
বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা নাজুম উল্লাহ বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও ওই তরুণীকে মারধর করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি মামলা পর্যন্ত না গড়াতে কয়েকজন মীমাংসার চেষ্টা করেন।’
শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন মোহাম্মদ আইয়ুব, তাঁর ভাই মোহাম্মদ ইসমাইল, মো. ইউনুচ, কুলসুমা আকতার, মোর্শেদা আকতার, রেহেনা আকতার, ইয়াছমিন আকতার জুলি, নাসিমা আকতার, রহমত উল্লাহ ও মো. আলম।
বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘৯৯৯-এর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে বিবস্ত্র করে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামি মোর্শেদা আকতার ও রেহেনা আকতারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’





