বন্ধুর হাত থেকে ছুটে সমুদ্রের স্রোতে ভেসে গেল ইয়াছিন

নিহত ইয়াছিন
চার বন্ধু মিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। গল্প, আড্ডা আর আনন্দেই কাটছিল সময়। এরপর চার বন্ধু একসঙ্গে নামেন সমুদ্রে গোসল করতে। কিন্তু প্রবল ঢেউ আর তীব্র স্রোত মুহূর্তেই কেড়ে নেয় কলেজছাত্র ইয়াছিনের প্রাণ।
তার বন্ধু হাত ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেননি।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলীর মধ্যবর্তী এলাকায়।
নিহত ইয়াছিন রামু সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। তবে পরিবারের সঙ্গে তিনি কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া ফুলবাগ সড়ক এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবা মো. আলী হোসেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে ইয়াছিন ছিলেন সবার বড়।
ইয়াছিনের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ইয়াছিন তার তিন বন্ধু শাহিদ, সোহান ও ওয়ালিদকে নিয়ে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যান। প্রথমে তারা কলাতলী এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। পরে কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মধ্যবর্তী সার্ফিং ক্লাবসংলগ্ন সৈকতে গিয়ে চার বন্ধু একসঙ্গে গোসল করতে নামেন।
বন্ধু সোহান জানিয়েছেন, গোসলের সময় হঠাৎ প্রবল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ইয়াছিন তলিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় শাহিদ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে তার হাত ধরেন। কিছুক্ষণ ধরে রাখতে পারলেও স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে হাত ছুটে যায়। মুহূর্তেই ইয়াছিন ঢেউয়ের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান।
খবর পেয়ে সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর সমুদ্র থেকে ইয়াছিনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বন্ধু শাহিদ বলেছেন, উদ্ধারের সময় ইয়াছিনের শরীরে প্রাণের স্পন্দন ছিল এবং তার মুখ দিয়ে ফেণা বের হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সি-সেইফ লাইফগার্ডের কর্মী মো. শুক্কুর জানিয়েছেন, যে এলাকায় ইয়াছিন ও তার বন্ধুরা গোসল করতে নেমেছিলেন, সেখানে লাইফগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা অবস্থান করেন না। বর্তমানে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল এবং স্রোতও তীব্র। তাই পর্যটক ও স্থানীয়দের শুধু লাইফগার্ড নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ এলাকায় গোসল করার আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।





