সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৮৮

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৩ জন। চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে।
আজ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত ‘হাম ও রুবেলা রোগের প্রতিবেদন-২০২৬’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট সদর উপজেলার ইয়ামিন (১ বছর ৫ মাস) এবং অন্যজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আনিসা (৮ মাস)। তারা দুজনই সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন এবং নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৪ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৭ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৮ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৮৮ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৩৫১ জন, সিলেটে ২৫৬ জন, হবিগঞ্জে ৯১ জন এবং মৌলভীবাজারে ৯০ জন। হবিগঞ্জের পরিসংখ্যানে রুবেলায় আক্রান্ত দুইজনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হয়েছেন আরও ১৪ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৬ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম-সংশ্লিষ্ট মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫২ জন, সিলেটে ৪৩ জন, হবিগঞ্জে ১৪ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানিয়েছেন, আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ এখনো উদ্বেগজনক। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।





