উপকূলে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

ছবি: আগামীর সময়
উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে জ্বর ও সর্দি-কাশি। পাশপাশি দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপও। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতি ১৫ জন জ্বরের রোগীকে পরীক্ষা করা হলে, তিন জনের শরীরেই মিলছে ডেঙ্গুর উপস্থিতি।
গত দুই সপ্তাহে শুধু হাসপাতালেই ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে আব্দুল্লাহ আকন (২০) নামে এক যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হলে গত ৮ সেপ্টেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে হাসপাতালের নির্দিষ্ট ডেঙ্গু ওয়ার্ড না থাকায় আক্রান্ত অনেককেই চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে। বেশ কয়েকজনকে দেখা গেছে বারান্দাতেও। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শয্যা সংকটের কারণেই এভাবে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের।
এ ছাড়া উপজেলার সদরের ১৫টি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষাতেও গড়ে দুইজন করে প্রতিদিন অন্তত ৩০ জনের শনাক্ত হচ্ছে ডেঙ্গু পজিটিভ। এদের মধ্যে কেউ কেউ ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে, আবার কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরছেন বাড়িতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ওষুধের দোকান থেকেও সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। বর্তমানে প্যারাসিটামল ও অ্যান্টিহিস্টামিন গ্রুপের ওষুধের বিক্রিও বেড়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা সদরের কয়েকজন ফার্মেসি মালিক।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কয়েকটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে জানা গেছে ডেঙ্গুর এই হালচিত্র।
নিউ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মিজানুর রাকিব এবং গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আলিম আল রাজি মুক্তি জানান, প্রতিদিন ১০-১২ জন করে জ্বরের রোগী আসছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু টেস্টে ২-৩ জন পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে। ডেঙ্গু শনাক্ত হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয় তাদের।
উপজেলার অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম বলে জানালেন তারা।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজিস্ট রেজবি হাসান জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন জ্বরের রোগী টেস্ট করা হলে, তার মধ্যে তিনজনই পাওয়া যাচ্ছে ডেঙ্গু পজিটিভ।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি জ্বর নিয়ে অসংখ্য রোগী আসছেন হাসপাতালে। এর মধ্যে যারা একটু বেশি আক্রান্ত, তাদের ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাদের ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পঠানো হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ডা. প্রিয় গোপাল আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সব রোগীকেই এডিস মশার বংশ বিস্তাররোধে বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশি বেশি পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের একই সঙ্গে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. প্রিয় গোপাল জানালেন, ৫০ বেডের হাসপাতালটিতে নিয়মিত ৬০ থেকে ৭০ রোগী ভর্তি থাকেন। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় যেখানে বেড খালি, ডেঙ্গু রোগীদের সেখানেই রাখা ছাড়া উপায় নেই।




