শ্রীমঙ্গলে পালিত হলো ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস

পালিত হয়েছে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। ছবি: আগামীর সময়
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে ১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতিকে ধারণ করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পালিত হয়েছে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। যা হুল দিবস নামেও পরিচিত।
সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলমনি ও ঝানুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মঙ্গলবার দিনব্যাপী আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদ।
শহরের ভানুগাছ রোডস্থ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিদ্রোহী নেতা সিধু ও কানুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এরপর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সুজিত সাঁওতাল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দুলাল সাঁওতাল ও স্বপন সাঁওতাল। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বনিক, সিনিয়র সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক আদিবাসী ফ্রন্টের সভাপতি পরিমল সিং বাড়াইক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বঙ্গকবি লুৎফুর রহমান, হাজী আব্দুল গফুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক প্রদীপ সাঁওতাল এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সুমন সাঁওতাল, জবা সাঁওতাল, রনজিত সাঁওতাল, সমর সাঁওতাল, দয়ামনি সাঁওতাল, নরেশ সাঁওতাল, প্রদীপ সাঁওতাল, কমল সাঁওতাল, রাঙাচরণ সাঁওতাল, শ্যামল সাঁওতাল ও বিষ্ণু সাঁওতালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেছেন, ইতিহাসে এ আন্দোলন ‘সাঁওতাল হুল’ বা ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। ‘হুল’ শব্দের অর্থ বিদ্রোহ বা মুক্তির সংগ্রাম। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মুর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসন, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে যে ঐতিহাসিক বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল, তা উপমহাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, আত্মমর্যাদা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
তারা আরও বলেছেন, সাঁওতাল বিদ্রোহ শুধু একটি গণঅভ্যুত্থান নয়, বরং শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধের এক উজ্জ্বল ইতিহাস। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রায় আড়াই হাজার সাঁওতাল নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভা শেষে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক পর্বে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়।




