নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে এসেও চাল পাননি দশমিনার ৪৮৪০ জেলে

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার শেষ পর্যায়ে এসেও সরকারি সহায়তার চাল পাননি ৪ হাজার ৮৪০ জন জেলে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে চাল বিতরণ করা হলেও রণগোপালদী ও দশমিনা ইউনিয়নের জেলেরা এখনো সহায়তা থেকে বঞ্চিত। এতে আর্থিক সংকটে পড়েছে নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারা জেলেদের পরিবারগুলো।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু রণগোপালদী ইউনিয়নের ২ হাজার ৫৯০ জন এবং দশমিনা ইউনিয়নের ২ হাজার ২৫০ জন জেলে এখনো চাল পাননি।
জেলেদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে চাল বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। তালিকায় প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি জেলে নন এমন ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টাও চলছে বলে দাবি তাদের। চাল পাওয়ার আশায় প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের।
দশমিনা ইউনিয়নের জেলে মো. কাশেম, কাওসার ও ইউনুসের অভিযোগ, অন্য কয়েকটি ইউনিয়নে আগেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। তাদের ইউনিয়নে তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে এসেও সহায়তা না পাওয়ায় তারা হতাশ।
রণগোপালদী ইউনিয়নের জেলে মো. সান্টু, জিসান ও জুয়েলও একই অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার ২১ দিন পার হলেও তারা চাল পাননি। তালিকা চূড়ান্ত করার কথা বলে বারবার তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত চাল পাবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন।
রণগোপালদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম রুবেল জানিয়েছেন, প্রকৃত জেলেদের যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগেছে। চূড়ান্ত তালিকা ইউপি সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী বৃহস্পতিবার চাল বিতরণের সম্ভাবনা আছে।
দশমিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, প্রকৃত জেলেদের নাম বাদ না পড়া নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৯ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই প্রতিটি ইউনিয়নে চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণে বিলম্বের কারণ তাঁর জানা নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, দ্রুত চাল বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনের নাম থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




