জামায়াত নেতার ওপর হামলায় এমপির থানা ঘেরাও-আল্টিমেটাম

থানার সামনে পুলিশকে আল্টিমেটাম দেন পাবনা-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ আলী আছগার
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা জিল্লুর রহমান (৪৫)। ঘটনার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে থানা ঘেরাও করেন পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগার। পুলিশকে দেন আসামি গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম। পরে বললেন, এ ছিল ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’।
হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপি-যুবদলকর্মী বলে উঠেছে অভিযোগ। রাতেই আটক করা হয়েছে দুজনকে। আজ সকালে হয়েছে মামলা, জানিয়েছেন ভাঙ্গুড়া থানার এসআই মো. আলামিন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের কালিনজিরা ব্রিজ এলাকায় ঘটেছে হামলার ঘটনা। আহত জিল্লুর খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি। শিক্ষকতা করেন উপজেলার দাশমরিচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল কালামের বর্ণনায়, বৃহস্পতিবার সকালে জিল্লুরকে রাস্তায় দেখে ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রির’ প্রসঙ্গ তুলে কটূক্তি করেন আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় তর্ক। একপর্যায়ে জিল্লুরের সঙ্গে থাকা একজন রহমানকে দুটি চড় মারেন।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাতে বাড়ি ফেরার পথে কালিনজিরা ব্রিজের ওপর হামলার শিকার হন জিল্লুর। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় রাজশাহী মেডিকেলে।
এ ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় হাজির হন জামায়াতের এমপি আলী আছগার। থানা ঘেরাও করে চলে বিক্ষোভ। স্লোগান ওঠে- ‘আমার নেতা রক্তাক্ত কেন? প্রশাসন জবাব চাই।’
পুলিশকে এমপির হুঁশিয়ারি, ‘শান্ত ভাঙ্গুড়াকে যারা অশান্ত করতে চায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানায় মোতায়েন হয় অতিরিক্ত পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সামনে আসেন থানার ওসি সাকিউল। আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। রাত ১১টার দিকে শান্ত হয় পরিস্থিতি। থানা ছাড়েন নেতাকর্মীরা।
জামায়াতের আমির কামালের অভিযোগ, সকালের তর্কের জেরেই লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছেন আব্দুর রহমান। প্রথমে জিল্লুরের খোঁজে তার বাড়িতে যান তিনি। পরে রাস্তায় তাকে পেয়ে করা হয় হামলা। আব্দুর ও তার সহযোগীরা ছাত্রদলের কর্মী বলেও অভিযোগ তার।
খানমরিচ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন এসব নাকচ করেছেন। বললেন, ‘আব্দুর রহমান নামের ওই অভিযুক্ত ছাত্রদল বা বিএনপির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এই প্রপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মূলত কয়েকদিন আগে স্থানীয় এক জামায়াতকর্মী এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে জনগণের হাতে লাঞ্ছিত হয়। সেই বিষয়টা নিয়েই কথা-কাটাকাটি থেকে এই ঘটনার উৎপত্তি।’
থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে পরে এমপি আলী আছগার বললেন, ‘আমার নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃতপ্রায় করে ফেলা হয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় থানায় গিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।’
থানার এসআই আলামিন শুক্রবার সকালে জানালেন হালনাগাদ তথ্য। বললেন, এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে দাশমরিচ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। তারা হলেন, দাশমরিচ গ্রামের আয়নাল ও তার ছেলে হাফিজুর রহমান। সকালে আব্দুর রহমানসহ ১০ জনের নামে এবং আরও ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন জিল্লুরের চাচাতো ভাই হাছেন আলী।




