আশেক মাহমুদ কলেজে শোক ব্যানার লাগিয়ে ছাত্রলীগের ২ নেতা আটক

আশেক মাহমুদ কলেজে লাগানো শোক ব্যানার— সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে শোক ব্যানার লাগানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন মারুফ হাসান জিহান (২০) ও মোহাম্মদ সীমান্ত শেখ (১৯)। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার গভীর রাতে কলেজের মূল ফটকের পাশে একটি দেয়ালে ব্যানারটি টাঙানো হয়। পরে দুপুরের দিকে জিহান ও সীমান্তকে আটক করে পুলিশ।
আটক মারুফ হাসান জিহান জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার আহসান হাবিবের ছেলে। তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। অপর আটক মোহাম্মদ সীমান্ত শেখ একই এলাকার আব্দুল মমিনের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের মূল ফটকের পাশের দেয়ালে কালো রঙের একটি শোক ব্যানার ঝুলছে। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যানারের ওপরে লেখা রয়েছে, ‘শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন’। নিচে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা, জামালপুর’ লেখা রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে গভীর রাতে বা ভোরে গোপনে ব্যানারটি টাঙিয়ে চলে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার বায়েজিদ বলেছেন, ‘গভীর রাতে গোপনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দোসররা কাজটি করেছেন। তবে কলেজে যারা নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করেন, তাদের গাফিলতি বা অবহেলা রয়েছে। গোপনে সকলের অগোচরে গভীর রাতে ব্যানারটি লাগানো হলেও সকালে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তা সরিয়ে দেয়নি।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ বিষয়টি আমি জানি না। নিষিদ্ধ সংগঠন, তারা তো গুপ্তভাবে সারা বাংলাদেশেই কাজ করতেছে। আমরা ছাত্রদলসহ সকল ছাত্র সংগঠনগুলো সর্বদাই অ্যাকটিভ আছি। রাতের অন্ধকারে তারা যেহেতু লাগাইছে, তো এখন আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সজাগ থাকব। আশা করি, এরপর থেকে ছাত্রলীগকে এরকম কার্যক্রম আর জামালপুরের কোথাও ঘটতে দেওয়া হবে না।’
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেছেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত জিহান ও সীমান্তকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাবেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।







