রেলপথ আছে, চক্রাকার ট্রেন চালুতে বাধা কোথায়?

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি, ভূঞাপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে আবার ঢাকায় ফেরার মতো রেলপথের সংযোগ রয়েছে। বিদ্যমান রেলপথ ও স্টেশন ব্যবহার করে এই পথে চক্রাকার ট্রেন চালুর সম্ভাবনা থাকলেও উদ্যোগ নেই। সংশ্লিষ্ট করিডরগুলো সমন্বয় করে এমন ট্রেন চালু করা গেলে নতুন করে পুরো রেলপথ নির্মাণ ছাড়াই কয়েকটি জেলার মানুষের যাতায়াতে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবিত রেলপথটি হলো ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল, ইব্রাহিমাবাদ, ভূঞাপুর, হেমনগর, জগন্নাথগঞ্জ বাজার, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ী, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও গফরগাঁও হয়ে আবার জয়দেবপুর ও ঢাকা। তবে এই পথে চক্রাকার ট্রেন চালু করতে বিদ্যমান অবকাঠামো, রেলসংযোগ, সময়সূচি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।
বিদ্যমান রেলপথের বড় একটি অংশে বর্তমানে ট্রেন চলাচল করছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর এবং সেখান থেকে সরিষাবাড়ী ও তারাকান্দি হয়ে ইব্রাহিমাবাদ পর্যন্ত রেলসংযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে ইব্রাহিমাবাদ থেকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথও রয়েছে। এসব সংযোগ সমন্বয় করা গেলে প্রস্তাবিত চক্রাকার রেল যোগাযোগের সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে।
একসময় জামালপুর, সরিষাবাড়ী ও তারাকান্দি হয়ে ইব্রাহিমাবাদ দিয়ে টাঙ্গাইল ও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল। তবে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল জামালপুর এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করা হয়। যমুনা রেল সেতু প্রকল্পের কাজ ও সংশ্লিষ্ট ইন্টারলকিং ব্যবস্থার কারণে এই পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে এই করিডরে সরাসরি ট্রেন চলাচলের প্রত্যাশিত সংযোগ ব্যাহত হয়। ২০২৬ সালেও ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল পথে জামালপুর এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে।
‘গাছপাগল’ রাজ্জাক
১৫ অক্টোবর ২০২৬
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পথে সরাসরি ট্রেন চালু হলে ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে বৃহত্তর জামালপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রেলযাত্রী হাবিবুল হাসান রিজভী বলেন, বর্তমানে রেল বিভাগে যেহেতু ইঞ্জিন ও কোচ সংকট, একই সঙ্গে এই অঞ্চলে যাত্রীচাহিদা বেশি। তাই জামালপুর এক্সপ্রেস এবং অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনকে সার্কুলার বা চক্রাকার পদ্ধতিতে চালানো হলে একদিকে যেমন দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে রেল ও যাত্রীসাধারণ উভয়ই লাভবান হবে। দেশের প্রথম চক্রাকার রেল নেটওয়ার্ক হিসেবেও জামালপুর অঞ্চলের পরিচিতি বাড়বে।
আরেক যাত্রী সিফাত সুলতানা শ্রাবণী জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলে রেলপথ রয়েছে। নতুন করে জামালপুর-টাঙ্গাইল রেলসংযোগও চালু হয়েছে। তার মতে, সরকার উদ্যোগ নিলে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে চক্রাকার রেলপথ চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুরে পৌঁছানোর পর ট্রেনটি সরিষাবাড়ী ও তারাকান্দি হয়ে ইব্রাহিমাবাদে যেতে পারে। সেখান থেকে টাঙ্গাইল ও জয়দেবপুর হয়ে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। একইভাবে বিপরীত দিকেও ট্রেন পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য রেলপথের সংযোগ, ট্রেনের সময়সূচি, ইঞ্জিন ও কোচের প্রাপ্যতা এবং পরিচালনাগত ব্যয় পর্যালোচনা জরুরি।
রেলপথ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রেললাইন নির্মাণে বিপুল অর্থ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। তাই বিদ্যমান রেলপথ সমন্বয় করে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ থাকলে তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় ফেরার প্রস্তাবিত চক্রাকার রেলপথ সেই সম্ভাবনার একটি মডেল হতে পারে।
বিদ্যমান রেলপথ, স্টেশন ও যাত্রীচাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এমন ট্রেন চালু করা সম্ভব কি না, তা নির্ধারণে প্রয়োজন আনুষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা যাচাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই এখন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহমুদুল হাসান বলেছেন, চক্রকার ট্রেনের বিষয়ে আমরা কোনো নির্দেশনা পায়নি। এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। এ ট্রেন চালু হলে সরিষাবাড়ী থেকে এই অঞ্চলের মানুষের সুবিধা বেশি হবে।




