খানাখন্দে ভরা সোনারগাঁও জাদুঘরের প্রধান সড়ক

সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক গর্তে ভরা। ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন জাদুঘরে আসা দর্শনার্থী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, পানাম নগর, গোয়ালদী শাহী মসজিদ ও ঐতিহাসিক টাকশালের প্রবেশপথে থাকা সড়কটির এমন দুরবস্থা দীর্ঘদিনের। বৃষ্টির সময় সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় চলাচলের উপযোগী সড়ক, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। গত দুই মাসে এ সড়কের গর্তে পড়ে দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
তারা জানান, ঢাকার দোহার থেকে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে বেড়াতে এসে সড়কের গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন সগির আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া স্কুলশিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার, মোহাম্মদ হোসাইন ও সৌরভসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের বিভিন্ন অংশে ইট-খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো তলিয়ে থাকায় পথচারীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনও।
দর্শনার্থী সফর আলী ও আছমা দম্পতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ও পানাম নগরের মতো ঐতিহাসিক দুটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথের এমন দুরবস্থা হতাশাজনক। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
দিঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, বৃষ্টির সময় সড়কে পানি জমে থাকায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশও বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
ইছাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হোসেন প্রধান জানিয়েছেন, মাত্র ৩০০ গজের সড়কটির দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
টিপুরদী গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টি কিংবা শুকনো মৌসুমে যেকোনো সময় যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথের সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ের পর্যটন পরিবেশও উন্নত হবে।
সোনারগাঁ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, সড়কটির বেহাল দশা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পৌরসভার একাধিক সভায় আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অবগত। দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আসিফ আল জিনাত জানিয়েছেন, সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি সভায় আলোচনা হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




