পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র
শ্রমিকদের ওপর যুবদলের হামলার অভিযোগ, আহত ১২

গুরুতর আহত পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে শ্রমিক অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজার এলাকায় ঘটে এ হামলার ঘটনা। এতে আহত হয়েছেন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত ১২ সদস্য। গুরুতর আহত পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০)। আহত অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত শ্রমিকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় কর্মসূচি পালনের পর বিকেল ৩টার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
তবে আন্দোলন স্থগিতের পর কয়েকজন শ্রমিক বটতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শ্রমিকদের দাবি, বিকেল ৫টার দিকে ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধার নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শ্রমিকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জাহাজে মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজে স্থানীয় ও সরকার নিবন্ধিত নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এ দাবিতে মঙ্গলবার পালন করেন কর্মসূচি। আন্দোলন স্থগিত করার পরও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধা। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে প্রশাসনের লোকজন ছিল। তারা যদি বলে আমি মারধরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, তাহলে আমি অপরাধী। মারধরের পর ঘটনা শুনে আমি সেখানে গিয়েছি। কারা কারা মারামারি করেছে, তা আমি জানি না।’
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







