২০০ হান্ডি ও ৪৬ চুলায় রান্না হচ্ছে তবারক

২০০টি বড় হান্ডি ও ৪৬টি চুলায় রান্না হচ্ছে গরু ও ছাগলের মাংস। ছবি: সংগৃহীত
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শহরের ইসলামনগর খানকা শরীফে চলছে ঐতিহ্যবাহী তবারক রান্নার আয়োজন। এবার ২০০টি বড় হান্ডি ও ৪৬টি চুলায় রান্না হচ্ছে গরু ও ছাগলের মাংস। রাতভর রান্না শেষে ভোররাত থেকে এসব তবারক বিতরণ করা হবে হাজারো মানুষের মধ্যে।
আয়োজকরা বলছে, এবার তবারকের জন্য জবাই করা হয়েছে ৭১টি গরু ও ১৬০টি ছাগল। এসব মাংস রান্নার জন্য তৈরি করা হয়েছে ৪৬টি চুলা। সারি সারি করে সাজানো হয়েছে বড় বড় হান্ডি। রাতভর চলবে রান্নার কাজ।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রতিবছরই ইসলামনগর খানকা শরীফে তবারক রান্না ও বিতরণের আয়োজন করা হয়। এবারও এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
তবারক বিতরণেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। আয়োজকদের ভাষ্য, কেউ পাঁচটি গরু দিয়ে সহযোগিতা করলেও তার পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী তবারক দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল কোনো পরিবার অর্থ দিতে না পারলেও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী সমান তবারক পাবে। অর্থাৎ একজন সদস্যের জন্য এক ভাগ। অবদান কম-বেশি হলেও তবারক বণ্টনে কোনো বৈষম্য রাখা হয় না। তবে ইসলামনগরের বাইরের কেউ তবারক নিতে চাইলে একটি তবারকের জন্য ৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
আয়োজকেরা জানান, রাতভর রান্না শেষে ভোররাতের পর তবারক বিতরণ শুরু হবে। ইসলামনগর ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের হাতে রান্না করা মাংস পৌঁছে দেওয়া হবে। বিপুল মানুষের সমাগমের কারণে তবারক বিতরণ সুশৃঙ্খল রাখতে স্থানীয় যুবক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইসলামনগরের এই তবারক রান্নার আয়োজন ৭৫ বছরের ঐতিহ্য। প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
এবার ৭১টি গরু, ১৬০টি ছাগল, ২০০টি হান্ডি ও ৪৬টি চুলায় চলছে তবারক রান্নার আয়োজন। রান্না শেষে সেই তবারক পৌঁছে যাবে হাজারো মানুষের হাতে।







