সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগে এমপির ভাই ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

হাসপাতালে রক্তাক্ত সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস
কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্মাণাধীন সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বাংলা টিভির উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস।
হামলাকারীরা তাকে কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে। ভাঙচুর করা হয় তার ক্যামেরা। বর্তমানে তিনি কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পৌরসভার কুন্ডুপাড়া কালীবাড়ী মোড়ের মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে মো. শোভন হোসেন, ভাই মো. আনোয়ার হোসেন এবং এমপির দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী মো. রুহুল আমিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় মামলা করেন।
অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি ১৯ সেপ্টেম্বর কুমারখালী থানায় ২৪ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার গণমোড় থেকে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ভাই মো. আনোয়ার হোসেন, এমপির ছেলে মো. শোভন হোসেন ও তাদের লোকজন ক্ষিপ্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার সরেজমিন তদন্তে যান। তিনি সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসসহ অন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থলে ডাকেন। তদন্তের সময় সাংবাদিকরা নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
এজহারে আরও বলা হয়েছে, ইউএনও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় মাহবুবুল আহসান উল্লাসকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ও চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে কিল, ঘুসি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন তিনি।
হামলাকারীরা তার ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন, সহকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার জানান, পৌর সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এরপরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তার চলে আসার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি আরও বললেন, ‘এ ঘটনায় সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। জড়িতদের এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’



