নীলফামারীতে কৃষি কর্মকর্তাদের ৪৮ কোয়ার্টারের ৪০টিই পরিত্যক্ত

কৃষকদের দোরগোড়ায় থেকে কৃষি পরামর্শ ও সেবা দেওয়ার জন্য নীলফামারীর বিভিন্ন ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য নির্মিত সরকারি কোয়ার্টারগুলোর অধিকাংশই এখন জরাজীর্ণ। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় জেলার ৪৮ কোয়ার্টারের মধ্যে ৪০টিই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরিত্যক্ত পড়ে রয়েছে। মাত্র দুটি বর্তমানে বসবাসযোগ্য। আরও ছয়টি সংস্কার করলে ব্যবহার করা সম্ভব।
সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ কোয়ার্টার ঢেকে গেছে ময়লা-আবর্জনা ও জঙ্গলে। কোথাও দরজা-জানালা নষ্ট, কোথাও দেয়ালে বড় ফাটল। কয়েকটি ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে, বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড। কোথাও আবার ভবনের ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। এসব ভবনে দু-একজন কর্মকর্তা পরিবার নিয়ে থাকলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে বর্তমানে ১৬৫ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্মরত। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও সেবা দেওয়ার সুবিধার জন্য প্রায় তিন দশক আগে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এসব কোয়ার্টার। কোয়ার্টারে থাকার জন্য নির্ধারিত মাসিক ভাড়া মাত্র ৫০ টাকা। কিন্তু বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় অনেক কর্মকর্তাকে বাসাভাড়া নিতে হচ্ছে কর্মস্থল থেকে দূরে। এতে তাদের মাসে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কয়েক হাজার টাকা।
কামারপুকুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আশা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করায় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করতে হয়। কোয়ার্টারে থাকার পরিবেশ না থাকায় অনেক কর্মকর্তাকে বাইরে বাসা নিতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ধীমান ভূষণ বললেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণের মূল দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকের জমিতে রোগবালাই, পোকামাকড় দমন, সার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চাষাবাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা সরাসরি পরামর্শ দেন। তাদের আবাসনের ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা দ্রুত সেবা পাবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডলের দাবি, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক কোয়ার্টার জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা গেলে কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আরও কাছাকাছি থেকে সেবা দিতে পারবেন।






