প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ
করতোয়াসহ তিন নদী খননে ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার করতোয়াসহ তিনটি নদীর প্রাণ ফেরাতে ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার খনন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদী তিনটির খননকাজের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া মহানগরের এসপি ঘাটে করতোয়া নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্পের আওতায় মোট ২৯৪ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে। অনুমোদিত প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম ধাপে ৬ কিলোমিটার খননকাজের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে অবশিষ্ট অংশ খনন করা হবে।
তিনি বলেছেন, এ খননকাজ সম্পন্ন হলে বগুড়ার মানুষ নতুন ও রূপান্তরিত শহর দেখতে পাবেন। নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্য ফিরে আসবে। এতে বগুড়া মহানগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ ছাড়া করতোয়া নদীর দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সারা দেশে নদী, খাল ও জলাশয় খনন প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ছয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এরই মধ্যে ১০১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা আগের বিভিন্ন সরকারের সময় থেকে চলে আসছে। এ সমস্যা সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রাস্ট বোর্ডের (ডব্লিউআইও) প্রকৌশলীদের দেশের নদীগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরিপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে আর কোনটি থেকে যাবে না, তা নির্ধারণ করে একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তালিকাটি প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে। নদীভাঙন বা অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে কোনো স্থান থেকেই বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজমুল হক।




