নানির হাত ধরে ঘুরতে বের হয়েছিল ৯ বছরের শারমিন, কালবৈশাখী কেড়ে নিল প্রাণ

ছবি: আগামীর সময়
ঈদের ছুটির বিকেল। চারদিকে হালকা উৎসবের আমেজ। ৯ বছরের চঞ্চল শিশু শারমিনও ছিল বেশ খুশি। ছুটির আনন্দ গায়ে মেখে নানির হাত ধরে বাড়ির পাশেই একটু ঘুরতে বের হয়েছিল সে। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দযাত্রাই হবে তার জীবনের শেষ পথচলা! মুহূর্তের এক কালবৈশাখী ঝড় ওলটপালট করে দিল সবকিছু। রাস্তার পাশের গাছ ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিভে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণ।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে, আজ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে। নিহত শারমিন ওই গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নানির হাত ধরে বাড়ির পাশে ঘোরাঘুরি করছিল শারমিন। এ সময় হঠাৎ আকাশ কালো করে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের প্রচণ্ড বাতাসে রাস্তার পাশের একটি পুরোনো নারকেলগাছ ভেঙে সরাসরি শিশুটির ওপর পড়ে। গাছের আঘাতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় শারমিনকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশু শারমিন মারা গেছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো পরিবার। ছোট্ট মেয়েটির নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা। যার হাত ধরে শারমিন ঘুরতে বের হয়েছিল, সেই নানিও বারবার বিলাপ করে বলছেন, 'একটু ঘুরতে বের হয়েছিলাম, এভাবে চলে যাবে বুঝিনি।'
প্রতিবেশীরা জানান, শারমিন ছিল খুবই হাসিখুশি ও চঞ্চল স্বভাবের। সারাদিন খেলাধুলা আর দৌড়ঝাঁপে মেতে থাকত পুরো বাড়ি। তার এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পাড়া-প্রতিবেশীরা।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঈদের পরদিনই ফুটফুটে এই শিশুর অকাল বিদায়ে পুরো ঈশ্বরীপুর গ্রামজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল, উৎসবের আমেজ রূপ নিয়েছে গভীর বিষাদে।






