ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালের এমডি কারাগারে

হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. মোসলিম (১২) নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গতকাল রবিবার বিকালে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এসব তথ্য জানিয়েছেন সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম।
নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত শনিবার বিকালে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে দত্তেরহাটের ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের এমডি শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
ওসি জানিয়েছেন, ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তীতে মামলা করতে পারবে।






