ধামরাইয়ে শ্রমিকদের চেতনানাশক মিশ্রিত পানি খাইয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

এমএমবি স্টার ইটভাটা
ঢাকার ধামরাইয়ে শ্রমিকদের খাবার পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অচেতেন করে ইটভাটায় ডাকাতি হয়েছে। এতে অজ্ঞান ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চারজনের এখনও জ্ঞান ফেরেনি।
খবর পেয়েও পুলিশ দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশের পৌছাতে দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে গাংগুটিয়া ইউনিয়নের জালসা বউ বাজার এলাকার ‘এমএমবি স্টার’ নামে ইটভাটায় ঘটেছে এ ঘটনা।
ভুক্তভোগীরা জানায়, রাতে একদল ডাকাত ইটভাটায় প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক চেতনানাশক ওষুধ মিশ্রিত পানি পান করানো হয়। শ্রমিকরা অচেতন হয়ে পড়লে ডাকাতরা একটি মোটরসাইকেল, বৈদ্যুতিক তার, ট্রান্সফর্মারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এমএমবি স্টার ইটভাটার সহকারী ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক আগামীর সময়কে বললেন, ‘রাত ২টার দিকে ডাকাতরা অফিসে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ঠেকিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে সবাইকে ওষুধ মেশানো পানি খাইয়ে সবকিছু নিয়ে যায়।’
ঘটনার পরপরই ইটভাটার স্টাফ ও শ্রমিকরা স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যোগাযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত লোকবল নেই জানিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। এত দেরির কারণেই ডাকাতরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
ইটভাটার মালিক সুলতান উদ্দিন বলেছেন, ‘ডাকাতির খবর পেয়ে প্রথমে হাসপাতালে যাই আমার স্টাফদের দেখতে। কালামপুর হাসপাতাল ও কাওয়ালিপাড়া সীমান্ত ডিজিটাল হাসপাতালে ১০-১২ জনকে অচেতন অবস্থায় ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ৪ জনের এখনও জ্ঞান ফেরেনি। পরে ভাটায় গিয়ে দেখি সবকিছু এলোমেলো। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ডাকাতরা নিয়ে গেছে।’
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।’



