ইউএনও’র মডেলের বাইরে চুল কাটলেই শিশু শিক্ষার্থীরা পাবে শাস্তি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্কুল শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা 'হেয়ার স্টাইল' সুনির্দিষ্ট দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অনলাইন-অফলাইনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি সামাজিক মাধ্যমে জানাজানির পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নোটিশ দেয়। সেখানে বলা হয়, নির্ধারিত মডেলের বাইরে চুল কাটলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নোটিশে প্রদর্শিত ছবির আদলে চুল ছেঁটে এবং নখ কেটে পরিপাটি হয়ে বিদ্যালয়ে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর শৃঙ্খলার সিদ্ধান্তে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করেছে। চুল কাটার ধরন নির্ধারণ করে দেওয়াটাকে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলেও মনে করছেন অনেকে। চুল নির্দিষ্ট ডিজাইনে না কাটলে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে এবং এর ফলে ঐ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হবে- এটার তীব্র সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা।
তবে অনেক অভিভাবক এই নোটিশকে স্বাগতও জানিয়েছেন। অভিভাবক সেলিম রেজা বলছেন, "সন্তানদের মানুষ করার পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আমার ছেলে আগে চুল ছোট করতে বিরক্ত হতো, কিন্তু স্কুলের নোটিশ দেখার পর সে নিজে থেকেই চুল কেটে পরিপাটি হয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানাচ্ছেন, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই পদক্ষেপ। এটি কোনো অন্যায় চাপ নয়, বরং প্রশাসনিক নির্দেশনারই অংশ।
নির্দেশনা প্রদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না নিজের উদ্যোগের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন, "এটি মূলত শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মানুবর্তিতা শেখানোর একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ছাত্রদের চুল বড় রাখা শোভনীয় নয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা প্রতি সপ্তাহে নখ কাটবে এবং মানসম্মত ছোট চুল রাখবে। বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে ইতিবাচক মানসিকতায় গ্রহণ করা উচিত।"
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেওয়া শিক্ষকদের নিয়মিত কাজের অংশ। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখার অবকাশ রয়েছে।
এদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের নোটিস দেয়ার বিষয়টিকে ব্যক্তি-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেছেন, "শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু চুলের কাটিং নিয়ে শাস্তির হুমকি দেওয়াটা কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা দরকার। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে।'
ওই নির্দেশনা প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আধুনিক যুগে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পাঠদানের পরিবেশের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। সেখানে চুলের কাটিংয়ের মতো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শাস্তির ভয় দেখানো তাদের মানসিক বিকাশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।

