চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

সংগৃহীত ছবি
ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। আজ শনিবার সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি। এর মধ্য দিয়ে ৫০ বছরের বেশি সময় পর চাদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে ফিরে এলো মানুষ।
শনিবার পৃথিবীর কক্ষপথে উচ্চগতিতে প্রবেশের পর প্যারাসুটের সাহায্যে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ আসে মহাকাশযানটি। সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান নভোচারীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে জানান, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ (গ্রিন) আছেন।’ চার মহাকাশচারীর জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর উড়োজাহাজে করে তাঁদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।
গত ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা। শনিবার সফুল অবতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান।
নতুন বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছে এই মিশন। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল। এই দূরত্ব ভেঙ্গে দিয়েছে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড, যেটা ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল। এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। তাঁরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।

