দুই পক্ষের বিরোধে বন্ধ বাস, দুর্ভোগে নওগাঁর যাত্রীরা

রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের কারণে জেলার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
বাসচালক ও এক সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে নওগাঁয় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের কারণে জেলার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে গন্তব্যে যেতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওই দিন নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে অতর্কিত মারধর করার অভিযোগ ওঠে সিএনজিচালকদের বিরুদ্ধে।
গুরুতর আহত রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নওগাঁ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার বিচার এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার চলাচল বন্ধের দাবিতে রবিবার সকাল ৭টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রথমে বালুডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। পরে জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা জানালেন, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ নেই। তবে এই নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কে এসব যান চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে সময়ও বেশি লাগছে।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বললেন, এ বিষয়ে সিএনজি অটোরিকশার মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত বাস ধর্মঘট ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বললেন, বাস মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। তারা সদর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আশ্বস্ত করলেন, শ্রমিকদের দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তারা বাস চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।



