লক্ষ্মীপুর
বরিশালগামী লঞ্চ সংকট, চরম দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটে ভোলা ও বরিশালগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। বরিশাল রুটে লঞ্চ সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষা, পল্টুনে স্থান সংকুলান না থাকা এবং অচল টয়লেটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। একই সঙ্গে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপারও অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটে গিয়ে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
মেঘনা নদীপথে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। সিলেট, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ এ রুটে চলাচল করেন। ঈদসহ সরকারি ছুটির সময় যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
যাত্রীরা জানান, ভোলার ইলিশা ঘাটে চলাচলের জন্য একাধিক লঞ্চ থাকলেও বরিশাল রুটে রয়েছে মাত্র একটি লঞ্চ, এমভি পারিজাত। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে লঞ্চটির ঘাট ছাড়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত সেটি ঘাটে পৌঁছেনি। পরে দেড়টার দিকে লঞ্চটি ঘাটে আসে। এতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের তিন ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
অপেক্ষার পাশাপাশি পল্টুনে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং একমাত্র টয়লেটটি ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় নারী যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে ঘাট এলাকায় অবৈধভাবে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার চলতে দেখা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, নৌপুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও ঝুঁকিপূর্ণ এ পারাপার বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মজুচৌধুরীর হাট নৌপুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আব্দুর রহমান ও ঘাট ইজারাদার আমির আহম্মেদ রাজু বলেছেন, এমভি পারিজাত লঞ্চটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোলার ইলিশা ঘাটে আটকে পড়ে। সেখানে ত্রুটি মেরামত শেষে ঘাটে আসতে দেরি হয়েছে।
টয়লেটটি যাত্রীরা নষ্ট করেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত পরিষ্কার করে এটি আবার ব্যবহার উপযোগী করা হবে।






