পিরোজপুরে সুপারির আবাদ বাড়লেও কমছে ফলন, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

ছবি: আগামীর সময়
ভোরের আলো ফুটতেই ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক আর দর-কষাকষিতে মুখর হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম সুপারির হাট পিরোজপুরের কাউখালী বাজার। আকর্ষণীয় রঙ ও আকারে বড় হওয়ায় এ অঞ্চলের সুপারির চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। পাইকারদের হাত ধরে এ হাট থেকে প্রতিদিন সুপারি চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, খুলনা, যশোর, মাদারীপুর, টেকেরহাট, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে সুপারি আবাদের পরিধি বাড়লেও আবহাওয়াগত প্রতিকূলতায় এবার আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মুনাফা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পিরোজপুর জেলায় ৪ হাজার ৬৬৯ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৪০ থেকে ৯৩০ কোটি টাকা। পিরোজপুর সদর, কাউখালী ও নেছারাবাদসহ জেলার সাতটি উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির ফলন কিছুটা কম হয়েছে।
ফলন হ্রাসের কারণে স্থানীয় বাজারে সুপারির দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। বর্তমানে হাটে কুড়ি হিসেবে প্রতি কুড়ি সুপারি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং শুকানো সুপারি প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম ভালো পাওয়ায় আপাতদৃষ্টিতে লাভবান মনে হলেও, সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না চাষিদের।
সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলন নিয়ে পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন সুপারির ফলন হয়েছে। পিরোজপুরের সুপারির রঙ আকর্ষণীয় ও আকারে বড় হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি কৃষকদের একটি মূল্যবান অর্থকরী ফসল এবং দুঃসময়ে বড় আর্থিক জোগান দেয়। চাষিরা যেন বাগানগুলোর সঠিক পরিচর্যা করতে পারেন, সেজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে এটি বিদেশে রপ্তানি করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ফসলটির ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।
কাউখালী বাজারের এ সুপারির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শুধু পাইকার বা ব্যবসায়ীরাই নন, জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, এ হাটকে ঘিরে অন্তত শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। কেউ সুপারি কেনাবেচায় যুক্ত, আবার কেউ শ্রমিক হিসেবে বস্তা বহন ও লোড-আনলোডের কাজ করছেন। মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে একজন শ্রমিকের দৈনিক আয় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
কাউখালী বাজারের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম জানান, হাটের খাজনা তুলনামূলক কম এবং ব্যবস্থাপনা ভালো হওয়ায় প্রতিনিয়ত ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বাড়ছে। সপ্তাহের প্রতি শুক্র ও সোমবার— এ দুই হাটের দিনে কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়।



