চন্দ্রগঞ্জ
প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে অবৈধ ইটভাটা, ক্ষুব্ধ শতাধিক পাওনাদার

ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে ‘মিল্লাত (সোনালী ব্রিকস)’ নামে একটি ইটভাটা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাবেক ইটভাটার মালিকের পাওনাদাররা। পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে ইটভাটা চালু করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধনও করেছেন পাওনাদাররা।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে অবস্থিত ইটভাটায় চেক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জড়ো হন শতাধিক পাওনাদার। এ সময় তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, সাবেক সোনালী ব্রিকসের মালিক ফারুকী আজমের কাছে তাদের প্রায় এক কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
এদিকে পাওনাদার ও ইটভাটা প্রস্তুতকারীদের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, নির্দেশনা অমান্য করে ইটভাটার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও আবারও তা শুরু করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বদিউল আলম, বিবি শাহেদা, শিউলি আক্তার, ফারহানা আক্তার শিল্পী, বিবি আয়েশা, আব্দুল মতিন, সিরাজ, আব্দুল কুদ্দুস, তাহের, নুরুল ইসলাম ও ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়াসহ অনেকে। তাদের মধ্যে বদিউল আলমের ৬ লাখ ৫০ হাজার, বিবি শাহেদার ২ লাখ ৫০ হাজার, শিউলি আক্তারের প্রায় ১ লাখ, ফারহানা আক্তার শিল্পীর ৪ লাখ ৫০ হাজার, বিবি আয়েশার প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার, আব্দুল মতিনের প্রায় ১০ লাখ, সিরাজের প্রায় ১০ লাখ, আব্দুল কুদ্দুসের ১১ লাখ, তাহেরের প্রায় ৫ লাখ, নুরুল ইসলামের ৫ লাখ ২০ হাজার এবং ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়ার ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া, আবু তাহের, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল মতিনসহ কয়েকজন পাওনাদার জানালেন, ফারুক কোম্পানির কাছে প্রায় এক হাজার মানুষের ৫ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। তাদের দাবি, ইটভাটাটি এখনো ফারুকের মালিকানাধীন। ভাটার জমি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইজারা নেওয়া। সেখানে থাকা ইটভাটা ও মাটির স্তূপও ফারুকের। এসব সম্পদ থাকলে পাওনাদাররা তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার আশা করছেন। কিন্তু নতুন করে কারা ইটভাটাটি প্রস্তুত করছেন, তা তারা জানেন না। পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাউকে ভাটাটি চালু করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সোনালী ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ফারুকী আজম বলেছেন, ‘আমার প্রচুর টাকা দেনা রয়েছে। ইটভাটা ভাড়া করা জমিতে স্থাপিত। আমার কিছু জমি ব্যাংকে জামানত রেখে ঋণ নিয়েছিলাম। ব্যাংক সেই জমি নিলামে দিয়েছে, আমার প্রতিষ্ঠান নয়। একটি চক্র আমার প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে তৎপর হয়ে উঠেছে। আমার প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে আমারই থাকবে।’
মিল্লাত ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বললেন, ‘আমি ভাড়া নিয়ে ভাটাটি প্রস্তুত করছি। কে কার কাছ থেকে টাকা পাবে, সেটা আমার জানার বিষয় নয়। মিল্লাত নামে ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ছাড়পত্র ও নবায়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি আপিল করব।’ তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ইটভাটা প্রস্তুতের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুনুর অর রশিদ পাঠান জানালেন, মিল্লাত নামে একটি ইটভাটার জন্য আবেদন করা হলে ছাড়পত্র ও নবায়ন বাতিল করা হয়। সেখানে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। এ নির্দেশ অমান্য করা হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বললেন, ‘নির্দেশনা অমান্য করে ইটভাটা প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা নির্দেশনা মানছে না। অবৈধভাবে ইটভাটা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমরা তাদের কাজ করার অনুমতি দিচ্ছি না।’




