পরিবারের সুখের জন্য পাড়ি জমান প্রবাসে, ৬ মাস পর ফিরলেন লাশ হয়ে

নিহত প্রবাসী লিটন সরদার— সংগৃহীত
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ৪২ দিন পর দেশে আনা হয়েছে প্রবাসী লিটন সরদারের মরদেহ। আজ শুক্রবার সকালে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে রাজধানীর সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে মরদেহ নেওয়া হয় নিজ জেলা বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে। বাদ আসর উলানিয়া ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
নিহত লিটন সরদার উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের আশা গ্রামের ছিটু সরদারের ছেলে।
পরিবার জানিয়েছে, গত ১২ জুন বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মালবাহী গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন লিটন। পরে সৌদি পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৪২ দিন পর তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, উলানিয়া করোনেশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে লিটনের একটি ছোট হোটেল ছিল। তবে সেই ব্যবসার সীমিত আয় দিয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় বাড়তি আয়ের আশায় মাত্র ৬ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দাম্মামের একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন লিটন।
স্বজনদের ভাষ্য, বিদেশে যাওয়ার পর পরিবারের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে দেয়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রীর কান্না আর বাবাহারা দুই সন্তানের শোক নিয়ে কেটে গেছে দীর্ঘ ৪২ দিন। অবশেষে শুক্রবার প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেল পরিবার।
মৃত্যুকালে লিটন সরদার স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। বড় ছেলের বয়স ১০ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ২ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে শোকের পাশাপাশি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবার।





