ফেলনা বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন করছেন ইমরান

যে বর্জ্য একসময় ফেলে দেওয়া হতো, তা এখন কৃষির সম্পদে পরিণত হচ্ছে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন কচুরিপানা, গোবর, সবজির উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত উপাদান দিয়ে তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব জৈব সার। মাত্র দুই শতক জমিতে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্রশিল্পে রূপ নিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান।
ইমরান হোসেনের বাড়ি চৌগাছা উপজেলার মশিউর নগর গ্রামে। বাড়ির পাশে চারটি পাকা হাউজ নির্মাণ করে প্রায় দুই বছর আগে ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন তিনি। কম্পোস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয় গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, খৈল, চিটাগুড়, ট্রাইকোডার্মা পাউডার, নিমপাতা, কচুরিপানা, সবজির উচ্ছিষ্ট ও কাঠের গুঁড়া। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় এসব উপাদান মিশিয়ে ৪০-৪৫ দিন পচানোর পর তৈরি হয় জৈব সার। পাশাপাশি কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব বালাইনাশকও।
বর্তমানে তার খামারে প্রতি মাসে ৫-৬ টন ট্রাইকো কম্পোস্ট এবং প্রায় এক টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদন ও বিপণনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন পাঁচজন কর্মচারী।
তাদের একজন বিল্লাল হোসেন। তিনি বললেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধরনের ফেলনা বর্জ্য ও জৈব উপাদান দিয়ে সার তৈরি করা হয়। এসব উপাদান নির্দিষ্ট নিয়মে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। এই উদ্যোগে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।’
ইমরানের দাবি, রাসায়নিক সারের তুলনায় তার উৎপাদিত জৈব সারের দাম অনেক কম। বাজারে রাসায়নিক সারের দাম প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা। অন্যদিকে তার ট্রাইকো কম্পোস্ট বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করছে এই সার।
উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইনের ভাষায়, কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই ইমরান তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়। জৈব সার মাটির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান জোগানোর পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ ও উর্বরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন ভালো হয় এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।



