তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা নামল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। চারপাশে হালকা কুয়াশার আস্তরণ। উত্তরের দিক থেকে বয়ে আসছে ঠান্ডা বাতাস। হালকা কুয়াশার পর্দা ভেদ করে ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে সূর্য। প্রকৃতির এ পরিবর্তন যেন জানান দিচ্ছে—দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছাকাছি দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অন্য এলাকার তুলনায় আগেভাগেই অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকালে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশায় ঢেকে আছে জনপদ। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, শীতের প্রস্তুতি হিসেবে কেউ গায়ে জড়িয়েছেন চাদর, কেউবা পাতলা কাঁথা। ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজে বেরিয়ে পড়ছেন শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, চা ও পাথর শ্রমিক, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে কৃষকরা ছুটছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে। কারও হাতে কাজের সরঞ্জাম, কেউ যাচ্ছেন চা-বাগানে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন রাস্তায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে ঠান্ডা আরও তীব্র হয়। ভোরে অনেককেই চাদর বা কাঁথা গায়ে জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
শীতের আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন বাজার ও রাস্তার পাশে বসতে শুরু করেছে মৌসুমি পিঠার দোকান। ভাপা, চিতই ও পাকান পিঠার ঘ্রাণে জমে উঠছে কোথাও কোথাও শীতের সকাল। তবে দিনে তুলনামূলক উষ্ণতা আর রাতে ঠান্ডার কারণে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে বাড়ছে মৌসুমি অসুস্থতার আশঙ্কা। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থান এবং উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আগেই শীত অনুভূত হয়। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে এ অঞ্চলে শীতের অনুভূতিও ধীরে ধীরে বাড়ছে।




