খাগড়াছড়ির অনেক এলাকা এখনো পানির নিচে, বন্যা নিয়ে নেই সুখবর

ছবি: আগামীর সময়
খাগড়াছড়ি জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে দীঘিনালা উপজেলায়। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের দীঘিনালা উপজেলায় সড়কের একটি অংশ এখনো পানির নিচে রয়েছে। তাছাড়া দীঘিনালা-লংগদু উপজেলা সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে। চেঙ্গী নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় পরিস্থিতি এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবারে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে জেলায় ১৩৮ হেক্টর আউস ধান, গ্রীষ্মকালীন সবজি ১৪৩ হেক্টর, আমন ধানের বীজতলা ২০২ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের গঞ্জপাড়া এলাকার কৃষক মমিন বলেছেন, তার ২০ শতক জায়গায় গ্রীষ্মকালীন ফসল গত তিন দিন ধরে পানির নিচে রয়েছে। পানি নেমে গেলে তার ফসলের ক্ষতি হবে। ক্ষেতে ফলন দেওয়া শুরু হবে এমন সময়ে ক্ষেত পানিতে ডুবে গেল।
খাগড়াছড়ি সদরে চেঙ্গী নদীর তীরবর্তী গঞ্জপাড়া ছাড়াও রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলী, ফুটবিল, ঘাটপাড়া, আক্য ডাক্তার পাড়ার চরের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এসব ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার শংকা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।
এদিকে দীঘিনালা উপজেলায় মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই দিন ধরে বহু গ্রাম পানির নিচে রয়েছে। এ উপজলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কবাখালি ইউনিয়ন ও মেরুং ইউনিয়ন।
কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেছেন, কবাখালী ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম গত দুই দিন ধরে পানির নিচে রয়েছে। এসব গ্রামে হাজারের অধিক পরিবার বসবাস করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আরও অতিরিক্ত দুটি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কবাখালী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়ক চলে গেছে। কবাখালি এলাকায় সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাই সাজেক-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ।
তিনি আরও জানালেন, নারিকেল বাগান গ্রামে ৮৯ পরিবার, শান্তিপুর গ্রামের ৪০ পরিবার, মিলনপুর গ্রামে ৪২ পরিবার এরা সবাই পাহাড়ি। তারা পানিতে ডুবলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি। তারা আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আশ্রয় নিয়ে রয়েছে।
মেরুং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনা দেবী চাকমা মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের বহু এলাকা এখনো পানির নিচে। স্টিলব্রিজ এলাকা, মেরুং বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় দীঘিনালা-মেরুং-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মেরুং ইউনিয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি ও ইউনিয়ন পরিষদ জরুরি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আরও তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এদিকে মহালছড়ি উপজেলায়ও বহু ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, খাগড়াছড়ির উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, এবারের বন্যায় আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন ফসল ও আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তিন হাজার কৃষককে বীজ সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানালেন।




