নিজের পরনের বুটের লেসে ঝুলছিল নিরাপত্তা কর্মীর মরদেহ

ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। রাতের দায়িত্ব শেষ করার প্রস্তুতিতে ছিলেন এপেক্স ফ্যাক্টরির নিরাপত্তাকর্মী মো. আব্দুল হান্নান (৫৫)। ভোর সোয়া ৪টার দিকেও তাঁকে দায়িত্বস্থলে দেখেছিলেন তাঁর ইনচার্জ। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ফ্যাক্টরির ভেতরের একটি আমগাছ থেকে মান্নানের পরনের বুটের লেসে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা বড়ইতলা এলাকায় নির্মাণাধীন এপেক্স ফ্যাক্টরির চৌহদ্দির ভেতরে ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্বজন ও সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে নিহতের ভাতিজা আব্দুল আজিজকে বিষয়টি জানানো হলে তিনিও দ্রুত সেখানে পৌঁছান। গিয়ে তিনি তাঁর ছোট কাকা আব্দুল হান্নানকে একটি আমগাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
বিদিশার প্রতারণার জাল
২৬ আগস্ট ২০২৬
আব্দুল আজিজের ভাষ্য, গাছটির কাছাকাছি প্রায় ১০ হাত দূরে তার কাকার পরিহিত বুটজোড়া পড়ে ছিল। গাছের ডালে গলায় বুটের লেস দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। তবে কেন তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহত মো. আব্দুল হান্নান কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থানার বালিয়ামারি মন্ডল এলাকার মৃত সলিমুদ্দিন আকন্দের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জের উলুখোলা বড়ইতলা এলাকায় নির্মাণাধীন এপেক্স ফ্যাক্টরীতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের ভাতিজা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে অপমৃত্যুর সংবাদ দেন।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যিনি স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বস্থলে ছিলেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে ফ্যাক্টরীর চৌহদ্দির ভেতরের একটি আমগাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেল-এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা।
কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বললেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত চলছে।







