প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

দৌলতপুরে দরিদ্র পরিবারের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগী পরিবারের মধ্যে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হটানো যাবে না। সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে।’
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ভাষ্য, বিএনপি জনগণের দল ও জনবান্ধব দল। বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন জনগণের ভালো থাকার জন্য কাজ করার চেষ্টা করে। অতীতে গণতন্ত্র যখন হোঁচট খেয়েছে, তখন বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।
তিনি মনে করেন, ‘জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের বিদায় হয়েছে। বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকারকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র যাতে সফল না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানিকগঞ্জে এসে খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাল খননের পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এলাকার খাল ও জলাশয়গুলো পর্যায়ক্রমে খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতেও সহায়তা দেওয়া হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি বকনা বাছুর থেকেই একটি পরিবার ধীরে ধীরে খামারি হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। দুধ ও গবাদিপশু বিক্রি করে তারা আয় করতে পারবেন। দৌলতপুরসহ চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
এলাকার উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুফলভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অর্ধশতাধিক দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বকনা বাছুর বিতরণ করেন।
মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।



