কত ঘাট পেরিয়ে মাঠে আসে সার
কুড়িগ্রামে সার বিতরণে ছিল অনিয়ম
- গুদাম ভেঙে লুট হওয়া সারের ১২২ বস্তা উদ্ধার

উদ্ধার হওয়া সার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) নিয়ে যান বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। গত রবিবারের এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১২২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সার উদ্ধারের পাশাপাশি তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। উপজেলা প্রশাসন বলছে, সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ডিলারের রেজিস্টার ও ভাউচারে অসংগতি এবং কৃষক নন— এমন ব্যক্তির কাছে সার বিতরণের সত্যতাও পাওয়া গেছে।
গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুল হাজির মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে ঘটে এ ঘটনা। পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ পেয়েও ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল বিক্রিতে গড়িমসি করছিলেন বলে অভিযোগ কৃষকদের। তার গুদামে তখন ৩৪০ বস্তা সার মজুদ ছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার দিন সকাল থেকেই সারের আশায় ডিলার পয়েন্টের সামনে জড়ো হন দুই শতাধিক কৃষক। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় একপর্যায়ে উত্তেজিত কৃষকরা গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। পরে তারা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।
ঘটনার পরই বিষয়টি তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন। সেদিনই উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে (এসিল্যান্ড) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত সোমবার স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এবং ডিলারের বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করে। তদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যায় কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ডিলারের সার বিতরণে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ।
তিনি বলেছেন, ‘তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেয়েছে। বিশেষ করে রেজিস্টার খাতা ও ভাউচারে অসংগতি রয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃত কৃষক নন— এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও সার বিতরণের সত্যতা পাওয়া গেছে।’






