কেরানীগঞ্জ
পশুর হাট ইজারায় অস্বাভাবিক দরপতন

সংগৃহীত ছবি
ঈদুল আজহা সামনে রেখে কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারায় বড় ধরনের দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় অধিকাংশ হাটের ইজারা মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, ইজারাদার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা পশুর হাট কম মূল্যে ইজারা হওয়াকে কেন্দ্র করে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এবার কেরানীগঞ্জে মোট ৯টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে পাঁচটির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাটে প্রত্যাশিত দরপত্র জমা না পড়ায় সেগুলোর ইজারা কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়নি।
হাসনাবাদ পশুর হাটে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় হাটটির ইজারা পান হাজি মো. সেলিম। অথচ গত বছর একই হাটের ইজারা মূল্য ছিল ৬১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা কমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
আগানগর আমবাগিচা বালুর মাঠ পশুর হাট সর্বোচ্চ ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় ইজারা পান হাজি আনোয়ার হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ হাটের ইজারা মূল্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা কমেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে জিনজিরা পশুর হাট। মাত্র ৭ লাখ টাকায় হাটটির ইজারা পান মো. মোজাদ্দেদ আলী বাবু। গত বছর একই হাটের ইজারা হয়েছিল ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ এ হাট এত কম মূল্যে ইজারা হওয়া অস্বাভাবিক।
এ ছাড়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন নতুন সোনাকান্দা গবাদি পশুর হাট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা পান শাহাবুদ্দিন মেম্বার। গত বছর আলোচিত মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাট এবার ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা পান হাজি সাইফুল ইসলাম। অথচ গত বছর হাটটির ইজারা মূল্য ছিল প্রায় ৭২ লাখ টাকা।
এদিকে কাঙ্ক্ষিত দরপত্র না পাওয়ায় রাজাবাড়ী বালুর মাঠ, রসুলপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন বালুর মাঠ, খাড়াকান্দী মাদ্রাসা হাট ও বাঘাশুর হাটের ইজারা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পশুর হাটগুলোর ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যেসব হাটে প্রত্যাশিত দরপত্র পাওয়া যায়নি, সেগুলোর বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




