ফেনী
স্ত্রীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন স্বামী

প্রতীকী ছবি
ফেনীতে স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে নুর নবী হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত মো. শাহ পরান ফয়সাল ওরফে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানা পুলিশের তথ্যমতে, নুর নবী হোসেন ও তার স্ত্রী বিবি ফাতেমা ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি ঝুপড়িতে বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে তারা ছোটখাটো কাজ করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম প্রায়ই সেখানে গিয়ে বিবি ফাতেমাকে উত্ত্য্যক্ত করতেন। এ নিয়ে এর আগেও নুর নবীর সঙ্গে তার একাধিকবার বিরোধ হয়।
রবিবার ভোরে সাদ্দাম আবারও তাদের ঝুপড়িতে গিয়ে বিবি ফাতেমাকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। নুর নবী বাধা দিলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে সাদ্দাম সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে কয়েক দফা আঘাত করেন।
গুরুতর আহত নুর নবীকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গভীর রাতে দাগনভূঞা উপজেলার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।
ফেনী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সজল কান্তি দাস জানান, গ্রেপ্তার সাদ্দামকে সোমবার দুপুরে ফেনীর বিচারিক আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহত নুর নবী হোসেন ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের কাচিয়া মসনদ বাড়ি এলাকার আব্দুর রবের ছেলে। তার স্ত্রী বিবি ফাতেমা দাগনভূঞা উপজেলার বেলাল হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত শাহ পরান ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে।






